নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষক-ছাত্রীর সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল, তদন্তের দাবি

জোর করে কক্ষে নেওয়ার অভিযোগ, শিক্ষককে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি
টুইট ডেস্ক: নেত্রকোনার এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা মো. এহসানুল হকের সঙ্গে এক ছাত্রীর আপত্তিকর আচরণের অভিযোগসংবলিত সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজের একটি অংশে ওই প্রভাষককে এক ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। পরে তাকে একটি কক্ষের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একপর্যায়ে ওই ছাত্রী যেতে অনাগ্রহ দেখালে তাকে টেনে কক্ষের দিকে নেওয়া হয়। তবে ফুটেজের পরবর্তী অংশে কী ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে পুরো ঘটনাকে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করার আগে আইনগত তদন্ত প্রয়োজন।
এদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি আগস্ট মাসে ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক এহসানুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং তার ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এহসানুল হক ১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে শিক্ষকদের জরুরি সভায় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ও জেলা প্রশাসনকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এহসানুল হককে মাদ্রাসার অনার্স বিভাগের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের নন-এমপিওভুক্ত খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও একটি প্রতিবেদনে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে; অন্য একটি প্রতিবেদনে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সিসিটিভি ফুটেজের পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর নিরাপত্তা ও বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পেশাগত সীমারেখা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লেও যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করা কিংবা সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর পরিচয় প্রকাশ করা উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠানের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।






