রেলস্টেশনে কী ঘটেছিল, জানালেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আসিফ

টিকিট জটিলতার জেরে বাগ্‌বিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের অভিযোগ শিক্ষার্থীর; নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি আসিফের।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রেলস্টেশনে টিকিট নিয়ে জটিলতার পর আনসার সদস্যদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আসিফ। তাঁর দাবি, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রা করতে গিয়ে টিকিটসংক্রান্ত জটিলতার সূত্র ধরে স্টেশনে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়।

আসিফ জানান, তাঁর ভাইয়ের অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরতে হচ্ছিল। পরদিন ক্লাস থাকায় আগে থেকেই তিনি টিকিটের খোঁজ করছিলেন। স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারেন, কোনো সাধারণ যাত্রার টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। পরে এক বন্ধুর কাছে থাকা একটি সাধারণ যাত্রার টিকিটের মাধ্যমে তিনি যাত্রা করেন বলে জানান।

আসিফের ভাষ্য, গন্তব্যে পৌঁছে স্টেশন থেকে বের হওয়ার সময় প্রথমে কোনো আনসার সদস্য তাঁকে কিছু বলেননি। গেট পার হওয়ার পর কয়েকজন আনসার সদস্য তাঁকে ডাকতে থাকেন। তখন তাঁর বন্ধু বাইরে থেকে ডাকছিলেন এবং মুঠোফোনে বার্তাও পাঠাচ্ছিলেন।

আসিফ অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে একজন আনসার সদস্য পেছন থেকে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে কেন ডাক শুনছেন না জানতে চান। পরে তাঁর কলার ধরে টানাটানি করা হয়। এ সময় তিনি নিজের গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর দাবি, ওই আনসার সদস্য চাকরি চলে যাওয়ার হুমকিও দেন।

আসিফ বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর হাত ওই আনসার সদস্যের কলারে লাগে। তাঁকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

এরপর কয়েকজন আনসার সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে তাঁকে প্ল্যাটফর্মের ভেতরের দিকে নেওয়ার সময় ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় বলে জানান আসিফ। তাঁর অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর শার্ট ও ব্যাগ ছিঁড়ে যায় এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তিনজন তাঁকে ধরে স্টেশনের একটি কক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আসিফের ভাষ্য, ওই কক্ষে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ফেলে লাথি ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দুইজন ধরে একটি হাজতসদৃশ কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে বুট পরা অবস্থায় লাথি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং তাঁর মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁদের হস্তক্ষেপের পর আসিফ ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে বের হতে পারেন বলে জানান তিনি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে আসিফ বলেন, তিনি কীভাবে স্টেশনে গিয়েছিলেন, টিকিটের বিষয়টি কী ছিল, এরপর কীভাবে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া ও কলার ধরা হলো এবং পরবর্তী সময়ে মারধরের ঘটনা কীভাবে ঘটেছে—সবকিছু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে এসেছে। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তবে আসিফের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্য ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।