থাইল্যান্ডের সুকিরিনে হামলায় নিহত ২, আহত ৪

‘ভালো নগরী নারাথিওয়াত’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিস্ফোরণ ও গুলির মুখে পড়েন ১৮ জন স্বেচ্ছাসেবক।
বিশ্ব ডেস্ক: থাইল্যান্ডের নারাথিওয়াত প্রদেশের সুকিরিন জেলায় ‘ভালো নগরী নারাথিওয়াত’ নামে একটি অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৮ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে। কর্মসূচি শেষে ১৮ সদস্য একটি ছয় চাকার ট্রাকে করে সুকিরিন উপজেলা কার্যালয়ের দিকে ফিরছিলেন। পথে দুর্গম ও ঘন জঙ্গলে ঘেরা সরু সড়কে ট্রাকটি চলার সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
বিবরণ অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর ট্রাকটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে এবং উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিস্ফোরণের পরপরই সড়কের পাশের উঁচু এলাকা থেকে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। হামলাকারীরা কালো পোশাক পরা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃত করে ওই বিবরণে বলা হয়েছে।
হামলার মুখে ১৮ সদস্যের মধ্যে আটজন দ্রুত নিজেদের সামলে নিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁরা ট্রাক ও সড়কের পাশের মাটির গর্তকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে হামলাকারীদের দিকে গুলি চালান। প্রায় ১০ মিনিট ধরে পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা সরে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলায় বিস্ফোরণের আঘাতে দুইজন স্বেচ্ছাসেবক নিহত হন। আরও চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁরা চিকিৎসার মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে যান বলে ওই বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত বক্তব্যে ঘটনাটিকে সুকিরিনের স্বেচ্ছাসেবক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ওপর পরিকল্পিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হামলার পেছনে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের বিদ্রোহী সংগঠন বারিসান রেভলুসি নাসিওনাল (বিআরএন) জড়িত বলে অভিযোগ করা হলেও, এ দাবির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা নিশ্চিত করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবকেরা মূলত স্থানীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তার উদ্দেশ্যে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে অস্ত্র বহনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পর বেঁচে যাওয়া সদস্যদের প্রতিরোধের প্রশংসা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহযোদ্ধাদের রক্ষার মানসিকতার কারণেই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে বিস্ফোরণের ধরন, বিস্ফোরকের প্রকৃতি, হামলাকারীদের পরিচয় এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া না গেলে এসব দাবিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই চূড়ান্ত তথ্য দিতে পারে।






