নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, জুলাই থেকেই বাড়তি বেতন

তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন, ২০২৮ সালে কার্যকর হবে নতুন ভাতা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত পুরো বেতন একসঙ্গে কার্যকর করা হচ্ছে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রথম ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। এই বাড়তি অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত করে হিসাব করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বাড়তি মূল বেতনের মোট ৭০ শতাংশ পাবেন। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ সময়ে বাড়তি মূল বেতনের মোট ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।
তৃতীয় ধাপে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন বেতন কাঠামোয় নির্ধারিত বাড়তি মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। অর্থাৎ ওই তারিখ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলে নির্ধারিত পূর্ণাঙ্গ মূল বেতন পাবেন।
নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এতে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে ৬৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
পঞ্চম গ্রেডে মূল বেতন ৪৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা, ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, সপ্তম গ্রেডে ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা এবং অষ্টম গ্রেডে ২৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নবম গ্রেডে মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা হয়েছে। একইভাবে ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা, ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৪তম গ্রেডে মূল বেতন ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১ হাজার টাকা এবং ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর হলেও অন্যান্য ভাতা সঙ্গে সঙ্গে নতুন হারে কার্যকর হচ্ছে না। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা পাবেন।
অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে মূল বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হলেও নতুন কাঠামোর সব আর্থিক সুবিধা একই সময়ে কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হওয়ার পর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হারে অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় পেনশন সুবিধাভোগীরাও সুবিধা পাবেন। প্রজ্ঞাপনে পেনশনভোগীদের জন্য নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেলের প্রভাব শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও এর আর্থিক প্রভাব পড়বে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ও পেনশন সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তবে নতুন কাঠামোর পূর্ণ আর্থিক প্রভাব ২০২৭ সালের জুলাইয়ে মূল বেতনের শতভাগ এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে অন্যান্য ভাতা নতুন হারে কার্যকর হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কাঠামো পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হলেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই ব্যয় ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।







