বিএসএফের হাতে আটক বাঘার ৫ জনকে ফেরাতে এমপি চাঁদের উদ্যোগ

ভুল করে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর বিএসএফের হাতে আটক, সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে এমপি চাঁদের আলোচনা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাঘা: রাজশাহীর বাঘা সীমান্তে ভুলবশত ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক পাঁচ বাংলাদেশিকে আটকের আট দিন পেরিয়ে গেলেও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও তাদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারগুলোতে।
আটক পাঁচজনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তিনি রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
এমপি আবু সাঈদ চাঁদ জানান, আটক ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহকারী হাইকমিশনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, পাট কিনে নদীপথে ফেরার সময় ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করায় তাদের বিএসএফ আটক করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানার পর তাদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকায় পাঁচজনের পরিবার মানবেতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঘার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকজন ব্যক্তি পাট কিনে নৌকাযোগে নদীপথে বাড়ি ফিরছিলেন। রাতে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে নৌকার মাঝিরা দিক হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে তারা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার ভেতরে চলে যান। পরে বিএসএফের টহল দল পাটবোঝাই নৌকাসহ তাদের আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের কলেজশিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন, সাহাবুল আলী, বাবর আলী (৪০), নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম ও আশাদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের মধ্যে তিনজন পাট ব্যবসায়ী এবং দুজন নৌকার মাঝি।
আটক আশাদুল ইসলামের ভাই সাহারুল ইসলাম জানান, খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পেরেছেন, আটক পাঁচজনকে ভারতের রানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তাদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ঘটনার পর আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া আটক ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আটক পাঁচজনের কারও বিরুদ্ধে চোরাচালানের কোনো অভিযোগ বা সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস নেই। নদীপথে ফেরার সময় সম্পূর্ণ ভুলবশত তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছেন।
পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, ‘আটক ব্যক্তিরা অত্যন্ত দরিদ্র ও নিরপরাধ। দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’
আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাকসুদুর রহমান বলেন, বিএসএফের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি এখন কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।





