‘ইন্ডিয়া’ প্রসঙ্গে সাংবাদিককে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের কড়া জবাব

খালি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন, নিজের দেশের চিন্তা করেন’। বহুপক্ষীয় ফোরামে ‘ইন্ডিয়া’ প্রসঙ্গ নিয়ে হুমায়ূন কবিরের বার্তা। মোদির সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রাধিকার, তবে বহুপক্ষীয় বৈঠকেও আপত্তি নেই।

টুইট প্রতি‌বেদক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে ভারত প্রসঙ্গ ঘিরে প্রশ্নোত্তরে কিছুটা উত্তাপ তৈরি হয়।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের ধারাবাহিক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্ন ওঠে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী প্রশ্নটির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে রসিকতার সুরে বলেন, ‘ডেইলি ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট খাইতেই ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতেই ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতেই ইন্ডিয়া—তাইলে ভাই, আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন! নিজের দেশের চিন্তা করেন।’

এরপর অবশ্য তিনি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। হুমায়ূন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে কার্যকর ও ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাংলাদেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে বাংলাদেশের নেতারা অন্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না।

তিনি বলেন, যার সঙ্গে যখনই বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক প্রয়োজন হবে, বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়েও সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে। যেখানে যে সুযোগ থাকবে, বাংলাদেশ সেখানে সম্পৃক্ত হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে ভারত প্রসঙ্গ; হুমায়ূন কবির বললেন, ‘যেখানে যে সুযোগ থাকবে, আমরা সম্পৃক্ত হব’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও উঠে আসে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি পার্শ্ববৈঠক হয়ে থাকে। এসব বৈঠকের অনেকগুলোই সফরের শেষ পর্যায়ে বা সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্ধারিত হয়।
ফলে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে কোনো নির্দিষ্ট নেতার সঙ্গে বৈঠক হবে কি না—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না থাকাটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, বরং বহুপক্ষীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক বাস্তবতা ও জাতীয় স্বার্থকে সমন্বয় করাই মূল বিষয়।

হুমায়ূন কবির আরও বলেন, নেতাদের পক্ষে সবার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন পক্ষ থেকে অনেক আমন্ত্রণ থাকে; সময় ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই সেসব বৈঠক নির্ধারিত হয়।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক দেশের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিচালিত নয়। বহুপক্ষীয় ফোরামে বাংলাদেশের স্বার্থ যেখানে জড়িত, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংলাপ চালিয়ে যাওয়াই কূটনৈতিক বাস্তবতা।