ট্রাম্পকে সামনে রেখেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি রিপাবলিকানদের

জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও ট্রাম্পের ওপরই ভরসা দলটির

টুইট ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী কৌশলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব ততই স্পষ্ট হচ্ছে। জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ এবং ইরান যুদ্ধ ঘিরে বিতর্ক থাকলেও ট্রাম্পকে সামনে রেখেই নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রিক জাতীয় সম্মেলনে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও নীতির প্রশংসার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের কঠোরভাবে আক্রমণ করা হয়। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলটির নির্বাচনী কৌশলের মূল দিকটিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া দুই দিনের সম্মেলনে ট্রাম্পকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। এরই মধ্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে প্রচারে অংশ নেবেন তিনি।

রিপাবলিকান ভোটারদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে এমনভাবে ভোট দিতে হবে, যেন তিনি নিজেই প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে ডালাস সিটি হলে সমাবেশ করেছে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি। একই সময়ে আমেরিকান এয়ারলাইনস সেন্টারের কাছে বিক্ষোভ করে সংগঠন ইনডিভিজিবল। সংগঠনটির কর্মী জন প্যাটিসন দাবি করেন, রিপাবলিকানদের সম্মেলনের ফল ট্রাম্পের প্রত্যাশার বিপরীত হবে এবং টেক্সাসের রাজনৈতিক চিত্র পরিবর্তন করাই তাদের লক্ষ্য।

ডালাসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ক্যাথরিন সুয়ারেজ বলেন, রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো ও জিনা হিনোজাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। সিনেট নির্বাচনে তালারিকো রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনছেন। অন্যদিকে জিনা হিনোজা গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ট্রাম্পের উত্তরসূরি ভ্যান্স?

রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রিক সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা গেছে। তাঁর বক্তব্যে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও পেয়েছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া বক্তব্যে ভ্যান্স সরকারের সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করেন। রিপাবলিকান সমর্থকদের অনেকে তাঁকে ট্রাম্পের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে কয়েকজন সমর্থক পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও উল্লেখ করেছেন।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে অনুতপ্ত নন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে—এমন প্রশ্নের মধ্যেও যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত নন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহামের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে যুদ্ধের সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রভাবের কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করছেন কি না জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘অনুশোচনা’ শব্দটিতে বিশ্বাস করেন না। তবে মানুষ হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভেবে দেখা বা চিন্তা করা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।