টেকনাফ সীমান্তে ১৪ লাখ ইয়াবাসহ আটক ২

মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে অনুপ্রবেশের সময় উদ্ধার; ৯ মাসে ১ কোটি ৪৩ লাখ ইয়াবা জব্দ, আটক ২৪।

টুইট ডেস্ক: কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে নৌকাযোগে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ১৪ লাখ পিস ইয়াবার বড় চালান উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪২ কোটি টাকা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা বিওপির স্লুইচ গেটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৪ বিজিবি এসব ইয়াবা উদ্ধার করে।

বিজিবি জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অভিযানে ১ কোটি ৪৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং ২৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে হ্নীলা সীমান্ত দিয়ে বড় একটি ইয়াবার চালান প্রবেশের চেষ্টা চলছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং টহল জোরদার করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে দুই ব্যক্তি নৌকাযোগে হ্নীলা বিওপির স্লুইচ গেট এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবির বিশেষ টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়।

পরে নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি। তবে নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে হালকা ভাসমান কয়েকটি বস্তা দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালালে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ১৪০ কার্টনে ১৪ লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—হ্নীলা ইউনিয়নের জেলেপাড়া এলাকার গোপাল দাসের ছেলে জয়ঘর দাস (৫০) এবং ফুলের ডেইল এলাকার মো. শফিকের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন (২০)।

বিজিবির অধিনায়ক জানান, এর আগে গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর হ্নীলার ওয়াব্রাং এলাকা দিয়ে রাতের বেলায় ইয়াবার দুটি ছোট চালান পাচারের চেষ্টা করা হয়। তখন ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সহায়তায় দুই আসামিসহ ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।