দুদকের মামলায় বান্দরবান সদরের পিআইও কারাগারে

দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২৩ জুলাই ২০২৫ থেকে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পিআইও মিল্টন দস্তিদার; ৬ সেপ্টেম্বরের আদেশে সাময়িক বরখাস্ত, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদে যোগ দিতে পারবেন না।
বান্দরবান প্রতিনিধি: দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় বান্দরবান সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান স্বাক্ষরিত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, মিল্টন দস্তিদার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চাঁদপুর কার্যালয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মামলা নম্বর-০৪ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ মিল্টন দস্তিদারকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে গত ২৩ জুলাই ২০২৫ তাকে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মস্থলসহ অন্য কোনো পদে যোগদান করতে পারবেন না।
বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামণি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মিল্টন দস্তিদারের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তার স্থলে নতুন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মিল্টন দস্তিদার এর আগে বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার কথা জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও সাময়িক বরখাস্তের এ ঘটনায় সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।






