কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স লাইভ ফায়ারিং দেখলেন সেনাপ্রধান

নিদানিয়া ফায়ারিং রেঞ্জে আধুনিক বিমানবিধ্বংসী অস্ত্রের লাইভ ফায়ারিং; আকাশ প্রতিরক্ষায় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাই।
নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের নিদানিয়া এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বার্ষিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো অনুশীলন প্রত্যক্ষ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি।
বার্ষিক এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ইউনিটগুলো সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও অপারেশনাল সক্ষমতা তুলে ধরে। অনুশীলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন আধুনিক বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লাইভ ফায়ারিং পরিচালনা করা হয়।
লাইভ ফায়ারিংয়ের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের বাস্তব যুদ্ধপরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করা, অস্ত্রব্যবস্থা পরিচালনা এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সমন্বিতভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণকেন্দ্র নিদানিয়া
কক্সবাজারের নিদানিয়া এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ ও ফায়ারিং অনুশীলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে এর আগেও বিভিন্ন আধুনিক বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র ও ব্যবস্থার পরীক্ষা ও ফায়ারিং অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর মধ্যে এফএম-৯০ স্বল্পপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং সিএস/এএ৩ ৩৫ মিলিমিটার জোড়া নলবিশিষ্ট বিমানবিধ্বংসী কামানের মতো অস্ত্রব্যবস্থার ফায়ারিং অনুশীলনের কথাও উল্লেখযোগ্য। এসব অনুশীলনের মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর অস্ত্র পরিচালনা, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
এবারের বার্ষিক ফায়ারিং প্রদর্শনীও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সদস্যদের বাস্তবসম্মত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সেনাপ্রধানের মতবিনিময়
প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অনুশীলনে অংশ নেওয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি এয়ার ডিফেন্স ইউনিটগুলোর পেশাদারিত্ব, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির প্রশংসা করেন।
ভবিষ্যতের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন সেনাপ্রধান। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ধরে রাখা এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
আধুনিকায়নে গুরুত্ব
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন পরিকল্পনার আওতায় আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফোর্সেস গোল-২০৩০-এর ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও স্তরভিত্তিক করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে এয়ার ডিফেন্স কর্পসের প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাডার ও সেন্সর ব্যবস্থার সমন্বয় এবং আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বিশেষ করে কক্সবাজারের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এ এলাকায় নিয়মিত আকাশ প্রতিরক্ষা অনুশীলনের তাৎপর্য রয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুরক্ষায় দক্ষ ও প্রস্তুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অপারেশনাল প্রস্তুতির প্রতিফলন
নিদানিয়া ফায়ারিং রেঞ্জে অনুষ্ঠিত এবারের বার্ষিক ফায়ারিং প্রদর্শনী শুধু অস্ত্রের সক্ষমতা প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর প্রশিক্ষণের মান, দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা, অস্ত্র ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতিও যাচাই করা হয়েছে।
নিয়মিত এ ধরনের লাইভ ফায়ারিং অনুশীলন সেনাসদস্যদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা তৈরি করে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থার সঙ্গে সদস্যদের পরিচিতি ও দক্ষতা বাড়াতেও এসব অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সেনা সদর দপ্তর, কক্সবাজার এরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট এয়ার ডিফেন্স ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর বার্ষিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং প্রদর্শনীকে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং পেশাদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুশীলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ডিফেন্স টেকনোলজি অব বাংলাদেশ (ডিটিবি) ও এক্স।








