৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে গোদাগাড়ীতে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেলেন হজরত

নির্বাচনী ফল পরিবর্তনের অভিযোগে দীর্ঘ আইনি লড়াই, আদালতের রায়ে বাতিল মজিবুরের গেজেট
নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হজরত আলী। আদালতের রায়ে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মো. হজরত আলীকে ৫ নম্বর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন রাজশাহীর সদর সিনিয়র জজ আদালত ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল।
মামলার সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়েছে, গোদাগাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রথম প্রতিপক্ষ মো. মজিবুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা সংক্রান্ত ৭ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে প্রকাশিত গেজেট বাতিল ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে মামলার আবেদনকারী মো. হজরত আলীকে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালত রায়ের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. মজিবুর রহমান এবং আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. হজরত আলী।
হজরত আলীর অভিযোগ, ইউনিয়নের ফরাদপুর সবুজ সংঘ ও পাবলিক লাইব্রেরি কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করে তাকে পরাজিত দেখানো হয়। তার দাবি অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রে তিনি আনারস প্রতীকে ১ হাজার ২৭০ ভোট পান এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মজিবুর রহমান পান ৬৩৫ ভোট।
তবে ফলাফল পরিবর্তন করে হজরত আলীর ভোট ১ হাজার ২৭০-এর পরিবর্তে ৯৭০ এবং মজিবুর রহমানের ভোট ৬৩৫-এর পরিবর্তে ৯৩৫ দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে মজিবুর রহমানকে ৮৭ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
হজরত আলীর দাবি, ১০টি কেন্দ্রে মোট ১৯ হাজার ৮৮ ভোটের মধ্যে তিনি আনারস প্রতীকে ৯ হাজার ৮০১ ভোট পান। অপরদিকে মজিবুর রহমান নৌকা প্রতীকে পান ৯ হাজার ২৮৭ ভোট। অর্থাৎ প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে হজরত আলী ৫১৪ ভোটে এগিয়ে ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হজরত আলী প্রথমে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। পরে রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার পক্ষে রায় দেন।
হজরত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কারচুপির অভিযোগ এনে হজরত আলী আদালতের আশ্রয় নেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালত তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং মজিবুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করেছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আশরাফুজ্জামান মল্লিক বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।
নবঘোষিত চেয়ারম্যান হজরত আলী বলেন, “আমি এর আগে দুইবার গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০২১ সালের নির্বাচনে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছিলেন। কিন্তু ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেয়েছি। জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। এই ঐতিহাসিক রায়ে আমি এবং গোগ্রাম ইউনিয়নের জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত।”
তবে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন ও ষড়যন্ত্রের যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো হজরত আলীর বক্তব্য ও মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।






