ব্যাংকে এইচআর নীতিমালা বাধ্যতামূলক পালনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ

ব্যাংকগুলোকে নীতিমালা হালনাগাদ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও স্বচ্ছ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা।
নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার জারি করেছে। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এর বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৮ এর মাধ্যমে সব তফসিলি ব্যাংককে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদ করার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও স্থায়ীকরণে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ব্যাংককে যুগোপযোগী, সমন্বিত ও কার্যকর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদ করতে হবে।
নীতিমালায় ন্যূনতম ১৮টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ, শিক্ষানবিশকাল ও স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন, বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ ও পদোন্নতি, পদায়ন-বদলি, শীর্ষ নির্বাহী পর্যায়ের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা (Succession Planning), চাকরির অবসান ও পুনর্নিয়োগ, ছুটি ও অনুপস্থিতি, আচরণবিধি, শৃঙ্খলা ও স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনা, গোপনীয়তা ও হুইসেল ব্লোয়ার নীতি, ব্যক্তিগত ব্যবসায় নিয়োজিত হওয়ার বিধান, অভিযোগ নিরসন পদ্ধতি, অনিয়ম-অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণসহ কর্মস্থলে হয়রানি প্রতিরোধ।
এই নীতিমালা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে এবং তা ৩১ মার্চ ২০২৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
নিয়োগ ও স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে কার্যকর নির্দেশনা
সার্কুলারে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণ বিষয়ে আরও কঠোর ও স্বচ্ছতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এন্ট্রি লেভেল পদসমূহে (যেখানে অভিজ্ঞতা আবশ্যক নয়) সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা জব সাইটের পাশাপাশি কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এন্ট্রি লেভেল পদ হিসেবে বিবেচিত হবে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার/সিনিয়র অফিসার/প্রবেশনারি অফিসার বা সমমানের পদ এবং ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার/জুনিয়র অফিসার/ক্যাশ অফিসার বা সমমানের পদ।
এসব পদে নিয়োগে অনলাইন অ্যাসেসমেন্ট বা বৈজ্ঞানিক/লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে হবে। উচ্চতর পদে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম মৌখিক পরীক্ষাসহ প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর বিধান
যোগদানের এক বছরের মধ্যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। সার্কুলার জারির আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এ যাচাই ৩১ মার্চ ২০২৭ এর মধ্যে শেষ করতে হবে। অন্য ব্যাংক থেকে আসা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যাচাইয়ের প্রত্যয়ন থাকলে পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। তবে অব্যাহতিপত্রে (Release Order) শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের বিষয় উল্লেখ করতে হবে। পদোন্নতি বা সুবিধা পাওয়ার জন্য দাখিলকৃত পেশাগত সনদও যাচাই করে নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও (পরামর্শক/উপদেষ্টা ছাড়া) একই নিয়ম প্রযোজ্য।
কোনো সনদ জাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখের বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-২০ অনুসারে তথ্য সিএমএমএস (Corporate Memory Management System)-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্বাক্ষর করেছেন বিআরপিডি-১-এর পরিচালক গাজী মোঃ মাহফুজুল ইসলাম।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্দেশনা ব্যাংকিং খাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াবে, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাতের সুশাসন ও আমানতকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্যাংকগুলোকে এখন স্বল্প সময়ের মধ্যে নীতিমালা হালনাগাদ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।






