নভেম্বরে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ১৫ সেপ্টেম্বর ইউপি ভোটের তপশিল

ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন; আগামী বছরের শেষ নাগাদ সব স্থানীয় নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক : নভেম্বরের শেষভাগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে কমিশন।
দেশে বর্তমানে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে ২০২১ ও ২০২২ সালে নির্বাচন হওয়া ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে। এসব ইউনিয়নে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কমিশন। আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য কমিশনের সব প্রস্তুতি রয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ঘোষণা এবং নভেম্বরে ভোট শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কমিশন এগোচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছয় বা সাত ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আরেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে কোনো ইউনিয়নে মামলা, সীমানা নির্ধারণ বা অন্য কোনো আইনি জটিলতা থাকলে সেখানে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন নাও হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও আচরণবিধি সংস্কারের কাজও শেষ পর্যায়ে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন এবং পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর এবং তা নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর ভোটার তালিকা মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।
সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকাও প্রস্তুত করেছে কমিশন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তুলনায় এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজার বাড়তে পারে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হয়েছিল। এবার একসঙ্গে দুটি ভোট না থাকায় গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নভেম্বরের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার-ভিডিপির প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন পুলিশপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপাতত সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।
নির্বাচনী ব্যয় ও প্রস্তুতি কমাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আগে থেকে কেনা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সামগ্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। সংসদ নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রীও মজুত করা হয়েছিল।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ছোট হোসিয়ান ব্যাগ ও গানিব্যাগ ১ লাখ ১৫ হাজার পিস করে, বড় হোসিয়ান ব্যাগ ৭৫ হাজার পিস, মার্কিং সিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার পিস এবং অফিসিয়াল সিল ৮ লাখ ৪০ হাজার পিসসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সামগ্রী মজুত রয়েছে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে।






