রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ, মালিক-শ্রমিকদের বিরোধে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নাটোরে বাস আটকের জেরে পাল্টাপাল্টি বাস আটকের ঘটনা; রংপুর, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী ও নাটোরের বাস মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নাটোর হয়ে চলাচলকারী রাজশাহী থেকে বিভিন্ন আন্তঃজেলা রুটের বাস বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে রাজশাহী বাস টার্মিনালে এসে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ‘রাব্বি পরিবহন’-এর একটি বাস নাটোরে আটকে দেন স্থানীয় বাস মালিক-শ্রমিকরা। পরে বাসটির যাত্রীদের নামিয়ে ‘তুহিন পরিবহন’-এর একটি বাসে তুলে দর্শনার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপের পক্ষ থেকে নাটোরের ‘তুহিন পরিবহন’-এর তিনটি বাস আটক করা হয়। পরে নাটোরে আটক ‘রাব্বি পরিবহন’-এর বাসটি ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের তিনটি বাসও ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এরই মধ্যে বিরোধের জেরে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপ রাজশাহী থেকে সব আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। নাটোরের ওপর দিয়ে যেসব বাস চলাচল করে, সেগুলো বন্ধ রয়েছে। তিনি বাস টার্মিনালে গিয়ে বিস্তারিত জানার কথা জানান।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাজশাহী বাস টার্মিনালে আটকে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত বাস চলাচল করে।
রংপুরগামী যাত্রী শাহানাজ বলেন, তিনি রংপুর যাওয়ার জন্য কাউন্টারে এসে বসে আছেন। কাউন্টার থেকে কিছুক্ষণের মধ্যে বাস ছাড়ার কথা বলা হলেও এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও বাস ছাড়েনি।
অন্যদিকে, নাটোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, রাব্বি পরিবহনের একটি বাস কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই নাটোরে প্রবেশ করায় নাটোরের মালিক-শ্রমিকরা সেটি রাজশাহীতে ফেরত পাঠান। পরে নাটোরের ছয়-সাতটি বাস রাজশাহীতে আটকে দেওয়া হয়। এর জেরেই নাটোর-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিরোধ নিরসনে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ ও নাটোরের পরিবহন মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।






