ডিমের ডজন ১৬৫ টাকা, চড়া সবজি-মাছের বাজার

অধিকাংশ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি; কাঁচা মরিচ ১৬০, দেশি মাছের দাম ছাড়িয়েছে হাজার টাকা

টুইট ডেস্ক : রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্যতম ভরসা ডিমের দামও এখন চড়া। খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৪ টাকা। এক ডজন ডিমের দাম উঠেছে ১৬৫ টাকায়। পাশাপাশি অধিকাংশ সবজি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও ক্রেতাদের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ সাধারণ সবজির বেশির ভাগই ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আগাম শিমের দাম উঠেছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, প্রতি কেজি ৪০ টাকা। অন্যদিকে কাঁচা মরিচের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে ১৬০ টাকা কেজি হয়েছে। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজার অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। লালশাক ও কলমিশাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা, ডাঁটাশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউশাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচুশাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামেও স্বস্তি নেই

সবজির পাশাপাশি ডিমের দামও ক্রেতাদের চাপে ফেলেছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। চারটি ডিমের দাম ৫৫ টাকা। অর্থাৎ খুচরা হিসাবে প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় ১৪ টাকা।

ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, বর্তমানে খামারের মুরগির ডিম প্রতি হালি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়লেও কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তবে মুরগি ও গরুর মাংসের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও বাড়তি চাপ

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। দেশি ও চাহিদাসম্পন্ন কিছু মাছের দাম কেজিতে হাজার টাকারও বেশি।

রায়েরবাজারের মাছ বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, মাছের দাম মূলত আকার, মান, সরবরাহ এবং জীবিত না মৃত—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। একই ধরনের মাছের দামেও বাজারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য হতে পারে।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, একসঙ্গে ডিম, সবজি ও মাছের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজারে ৮০ টাকার নিচে অধিকাংশ সবজি না পাওয়ায় দৈনন্দিন খাবারের ব্যয়ও বাড়ছে।

ক্রেতা আবু দাউদ বলেন, যাঁদের দৈনিক আয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, তাঁদের জন্য চাল, মাছ ও সবজি একসঙ্গে কেনা কঠিন। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।