মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে বান্দরবানে সুধী সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালি

তরুণ প্রজন্ম রক্ষায় বান্দরবানে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা। মাদক একটি পরিবার ও প্রজন্মকে ধ্বংস করে—সুধী সমাবেশে বক্তারা।
বান্দরবান প্রতিনিধি: “মাদক ছাড়া গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রত্যয়ে বান্দরবানে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পুলিশের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মাদককে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পিপিএম; বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস; জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং এবং জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ, পিএসসি।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে। একপর্যায়ে তা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অপরাধ, অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা। স্কুল-কলেজে শিক্ষক, পরিবারে অভিভাবক এবং মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে তরুণদের সচেতন করতে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণকে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল কর্মসূচিতে।
সমাবেশ শেষে বান্দরবান শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা “মাদককে না বলি—তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করি”সহ বিভিন্ন মাদকবিরোধী স্লোগান দেন।
এদিনের কর্মসূচির মাধ্যমে বান্দরবান জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
সকালে রাজার মাঠে কৃষ্ণের বাঁশির শান্তির সুর আর বিকেলে পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী প্রতিরোধের স্লোগান—বান্দরবানের সামাজিক বাস্তবতায় যেন একই বার্তার দুই রূপ। একদিকে আধ্যাত্মিকতা ও সম্প্রীতি, অন্যদিকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ।
বক্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি স্পষ্ট বার্তা—মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নয়; এটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন একটি এলাকার তরুণ সমাজ সুস্থ, সচেতন ও কর্মমুখী থাকবে। সেই বিবেচনায় মাদকমুক্ত বান্দরবান গড়ার উদ্যোগ শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি নয়; এটি তরুণ প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ সমাজকে সুরক্ষার একটি সামাজিক অঙ্গীকার।







