মার্কিন-ইরান সংঘাত তীব্র, পাল্টাপাল্টি হামলা

দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান হামলা; জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা।
বিশ্ব ডেস্ক: আগস্ট ৩০-এর লারাক দ্বীপ হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের পর এটি অন্যতম বড় মার্কিন সামরিক অভিযান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় হামলা শুরু হয়। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ও যোগাযোগ কেন্দ্র ছিল হামলার লক্ষ্য। হরমুজ প্রণালীর আশপাশে হামলা কেন্দ্রীভূত হয়। ইরানি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বান্দার আব্বাস, কেশম, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, কোনারাক, মিনাব ও আসালুই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কেরমানের জিরোফট বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের ওপর আইআরজিসির সাম্প্রতিক হামলার প্রচেষ্টার জবাবেই এ অভিযান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে হামলাকে ‘বড় ও শক্তিশালী’ বলে উল্লেখ করে বলেন, হরমুজে মাইন স্থাপনের ব্যর্থ চেষ্টা ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জবাব এটি। ইরান পাল্টা হামলা চালালে আরও কঠোর, এমনকি ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ চালানোর হুমকিও দেন তিনি।
বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ
ইরানি সূত্রের দাবি, সিরিক-কুহেস্তাক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, চার বছরের শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৫০–৬৮ জন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, কেশমের মাছের মিল, সিরিকের মাছ ধরার ঘাট ও পোর্ট টাওয়ারসহ বেসামরিক স্থাপনাতেও আঘাত লেগেছে। এসব অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
ইরানের পাল্টা হামলা
আইআরজিসি জানিয়েছে, আকাবা উপসাগরের তীরে জর্ডানের ক্যাম্প টিটিনে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে ‘ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানো হয়েছে। জর্ডানের সেনাবাহিনী বলেছে, ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো হয়েছে; কয়েকটি দূরবর্তী এলাকায় পড়ে। বাহরাইন ও কুয়েতেও বিমান প্রতিরক্ষা সক্রিয় করা হয়। ইরাকের এরবিলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবিও করা হয়েছে।
ইরানি পক্ষ জর্ডানে বহু মার্কিন সেনা নিহতের দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করেছে এবং কোনো হতাহতের কথা জানায়নি। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘আগ্রাসীরা কঠোর শাস্তি পাবে। আমেরিকা তার নতুন হামলার জন্য অনুশোচনা করবে।’ ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডও সতর্ক করেছে, মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতা করা দেশগুলোকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
হরমুজ ঘিরে বিশ্ববাজারে চাপ
৩০ আগস্ট লারাক দ্বীপে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি ঠেকাতে দুটি রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় মার্কিন হামলা, ৩১ আগস্ট জর্ডানে ইরানের পাল্টা হামলা এবং ১ সেপ্টেম্বর হরমুজ থেকে বের হওয়ার সময় দুটি তেলবাহী সুপারট্যাংকার আক্রান্ত হওয়ার খবরের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। ট্যাংকার হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।
হরমুজ প্রণালী এখনো কার্যত বন্ধ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস এই পথে পরিবহন হতো। মঙ্গলবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি বেড়ে পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন।
২ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, ছয় মাসের এই যুদ্ধ নতুন করে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নিতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; নতুন তথ্যের সঙ্গে হতাহত ও হামলার চিত্রও বদলাতে পারে।






