৪৮ বছরের সংগ্রামের পর জনসমুদ্রে সংবর্ধিত সাচিং প্রু জেরী

চার পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন ও দুর্নীতি মনিটরিংয়ে নতুন দায়িত্ব
বান্দরবান প্রতিনিধি: গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছর পূর্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপিকে সংবর্ধনা উপলক্ষে বান্দরবানে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বান্দরবান প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার—এই চার জেলার সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
নতুন দায়িত্বের আওতায় উন্নয়ন বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
সমাবেশে সাচিং প্রু জেরী বলেন, সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, বিগত সময়ে জেলার উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পাহাড়ে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, উন্নয়নের অর্থ যাতে সঠিকভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নতুন নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং জনগণ সরকারি বরাদ্দের প্রকৃত সুফল পাবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আয়োজকদের ভাষ্য, ৪৮ বছরের সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নতুন দায়িত্ব নিয়ে সাচিং প্রু জেরীর বান্দরবানে আগমন এবং একই সময়ে চার জেলার উন্নয়ন ও সরকারি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পাওয়া পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।






