ডেমরায় বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলি, নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতা

মাদক ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দুজন।
টুইট ডেস্ক: রাজধানীর ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে আটজন মিলে ওই হামলা চালান।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে মাসুদ রানা ও তাঁর সহযোগী তরিকুল ইসলাম তাপসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক ও আটটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাইফুর রহমান মির্জা জানান, চারটি মোটরসাইকেলে করে আটজন হামলায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি তথ্য জানাতে চাননি তিনি।
যেভাবে হামলা পুলিশের হাতে থাকা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৮ আগস্ট ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে রেজা চৌধুরীর বাসার সামনে নামেন। এরপর আরও তিনটি মোটরসাইকেল সেখানে এসে থামে।
প্রথম মোটরসাইকেলে আসা দুজনের একজন কাঁধে থাকা ক্রিকেট ব্যাটের প্যাকেট থেকে একটি একনলা বন্দুক বের করেন। অন্যজন কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে নিচের দিকে গুলি করেন। পরে বাসা লক্ষ্য করে আরও একটি গুলি ছোড়া হয়।
এরপর পিস্তলটি তাঁর কাছ থেকে নিয়ে ওই ব্যক্তি বাসার দিকে আরও দুটি গুলি করেন। পরে সবাই মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
গুলিবর্ষণের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে এস এম রেজা চৌধুরী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় মামলা করেন।
মাদক কারবার নিয়ে অভিযোগ
মামলার অভিযোগে রেজা চৌধুরী বলেন, তাঁর এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইনে মাদক কেনাবেচা করে আসছেন। মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার কারণেই তাঁর বাসায় গুলি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রেজা চৌধুরীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা আওয়ামী লীগ আমলে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে এলাকায় মাদকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় অভিযোগ করায় মাসুদ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন।
রেজা চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে মাসুদ তাঁকে মাদক নিয়ে কথা না বলার জন্য হুমকিও দেন।
চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিরোধ
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রের দাবি, শুধু মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াই হামলার কারণ নয়। ডেমরার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত, টেম্পোস্ট্যান্ডসহ নানা স্থানে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিএনপির স্থানীয় একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেও হামলা হয়ে থাকতে পারে।
তবে চাঁদাবাজির সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন এস এম রেজা চৌধুরী।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার করা অস্ত্রের সূত্র ধরে হামলায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হামলার নেপথ্যে মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির বিরোধ,কোনটি প্রধান ভূমিকা রেখেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






