চাপে পড়ে বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দিল নেপাল

ভয়াবহ বন্যায় ২ হাজার ৪৮২ জন নিখোঁজ, নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক

টুইট ডেস্ক: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় উদ্ধারকাজে বিদেশি বাহিনীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব নাকচ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলেছে নেপাল সরকার। দেশটির কিছু বিশেষ এলাকায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞদের কাজ করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলা ও সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ভোতিকোশি ও এর শাখা লেহন্দে নদীর একটি প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসার পর এই দুর্যোগ সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে নেমে আসা বিপুল কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপাল ও চীনের হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় নেপালে ১ হাজার ৯২৪ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুই দেশে মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৮২ জনে। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বহু নাগরিক রয়েছেন।

বন্যার পর নেপালের উদ্ধারকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু প্রথমে কাঠমান্ডু এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। নেপাল সরকার জানিয়েছিল, তাদের নিজস্ব উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে এবং বিদেশি দলের সহায়তা এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই।

শুক্রবার দুপুরে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রীও জানিয়েছিলেন, নেপালের উদ্ধারকারী বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে এবং বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।

তবে তাঁর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান পরিবর্তনের কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য নেপালের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বন্যায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিতসংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নেপাল সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দুর্যোগ পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকা এবং তাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক থাকায় আন্তর্জাতিক সহায়তার চাপ বাড়ছিল।

এদিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিপুল পরিমাণ কাদা-পাথর ও ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে দেশীয় বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষায়িত বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।