নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে নিহত বেড়ে ৫০০

হাজারো মানুষ নিখোঁজ, ৬৬৭ পর্যটক ও ভ্রমণকারীরও সন্ধান নেই

টুইট ডেস্ক: নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর তীর, নিম্নাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর নিহতের সংখ্যা ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। বেঁচে থাকা মানুষ ও নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর প্রবাহ ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছে।

বুধবার সকালে উত্তর নেপালের রসুয়া ও আশপাশের এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। এতে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে প্রবল স্রোতের সঙ্গে পানি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেসে যায়। এতে কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা ও পর্যটকরা দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ১২৭ জন নেপালিসহ মোট ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করছে পর্যটন বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, পর্যটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এ কাজে ভ্রমণ সংস্থা, পর্বতারোহণ ও পথভ্রমণ প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, গাইড এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানো এবং আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থলপথে উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর তীর ও নিম্নাঞ্চলের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে যোগাযোগব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

আকস্মিক এই ভয়াবহ বন্যার সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে কোনো বড় ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই বন্যাটি আঘাত হানে। পরে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীপথ দিয়ে দ্রুত পানি ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষজন নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বিভিন্ন জেলা থেকে হতাহত ও নিখোঁজের তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনো চলছে। ফলে দুর্যোগটির প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।