ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন, ঢাকায় বসছে ‘ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’

১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী মেলা; প্রদর্শিত হবে ১৫০টির বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প, থাকছে ১৫টির বেশি সেশন ও সংলাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নভোথিয়েটারে এ মেলার আয়োজন করবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আয়োজকেরা বলছেন, দেশের উদ্ভাবনী শক্তিকে বাজারমুখী করা এবং গবেষণা ও প্রযুক্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করাই এবারের মেলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। উদ্ভাবক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একই প্ল্যাটফর্মে এনে একটি কার্যকর ও সমন্বিত উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রদর্শিত হবে ১৫০টির বেশি উদ্ভাবন

মেলায় ১৫০টির বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হবে। এতে তরুণ ও অভিজ্ঞ উদ্ভাবকেরা তাদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, গবেষণালব্ধ ফলাফল ও নতুন ধারণা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

এর পাশাপাশি মেলায় ১৫টির বেশি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও অর্থনীতির সঙ্গে গবেষণার সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।

মেলায় বিশেষ ‘ইনোভেশন হাব’ থাকবে। সেখানে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে যোগাযোগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

মেলায় প্রদর্শনীতে অংশ নিতে নিবন্ধনের শেষ সময় ৩০ আগস্ট ২০২৬। আগ্রহীরা www.innovationfairbd.org ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের অংশগ্রহণ

‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ দেশি-বিদেশি ৫০টির বেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ থাকবে। একই সঙ্গে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরিতে ৫০টির বেশি শিল্প বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন।

এ ছাড়া করপোরেট, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। এর ফলে গবেষণাগার থেকে উদ্ভাবনকে বাস্তব শিল্প ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

সুযোগ থাকছে উদ্যোক্তা ও গবেষকদের

ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান, করপোরেট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি, সরকারি সংস্থা, দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, নতুন উদ্যোগ, ধারণা বিকাশকেন্দ্র এবং সবুজ উদ্যোক্তারা মেলায় নিজেদের উদ্ভাবন প্রদর্শনের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।

মেলায় প্রদর্শনীতে অংশ নিতে নিবন্ধনের শেষ সময় ৩০ আগস্ট ২০২৬। আগ্রহীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন।

উদ্ভাবন থেকে বাজার, বাজার থেকে অর্থনীতি

আয়োজকদের মতে, কেবল নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করাই যথেষ্ট নয়; সেই উদ্ভাবনকে বাস্তব উৎপাদন, সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সে লক্ষ্যেই এবারের মেলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিনিয়োগের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা এবং গবেষণা সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে নতুন নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবন বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মেলাটি গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে শিল্পখাতের সংযোগ আরও জোরদার করবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর পথ তৈরি করবে।