মাদককে না বলুন, মেধাকে হ্যাঁ বলুন: বান্দরবান পুলিশ সুপার

বান্দরবান সরকারি কলেজে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা। তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান।
বান্দরবান প্রতিনিধি: মাদকের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে বান্দরবান সরকারি কলেজে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বান্দরবান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কলেজ ক্যাম্পাসে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার। সভায় সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা, মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, “মাদক একটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “মাদককে না বলুন, মেধাকে হ্যাঁ বলুন।” শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থেকে নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও যোগ্যতাকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও মাদকের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গঠনে বান্দরবান জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক প্রতিরোধ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। মাদকের বিস্তার ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ সমাজকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।







