বাস কাউন্টারে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

নাটোরের বড়াইগ্রামে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার অভিযোগ, চায়ের দোকান ও তিন মোটরসাইকেল ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর: নাটোরের বড়াইগ্রামে বিআরটিসি বাস কাউন্টারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বনপাড়া বাইপাসের পাবনা কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে বনপাড়া পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আকতার হোসেনকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন আলী ফকির গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বনপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি মমতাজউদ্দিন শেখ ও যুবদল কর্মী আসলাম হোসেনকে বনপাড়া পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বনপাড়া পৌর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রবিউল ইসলাম মৃধাসহ আরও দুজন আহত হয়েছেন।

লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার অভিযোগ

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বনপাড়া বাইপাসের পাবনা কাউন্টারের সামনে একটি চায়ের দোকানে হোসেন আলী ফকিরসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী বসে চা পান করছিলেন। এ সময় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলায় হোসেন আলী ফকির ও মমতাজউদ্দিন শেখ গুরুতর আহত হন। পরে অদূরে অবস্থান করা আকতার হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

চায়ের দোকান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর

সংঘর্ষের সময় একটি চায়ের দোকান ও তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর বনপাড়া পৌর শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ এলাকায় টহল জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের কারণ ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পৌর শহরে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হামলার কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাস কাউন্টারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে সংঘর্ষের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কারা হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে, তা পুলিশের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।