‘আমাকে গালি দেয়, আমি নাকি মেম্বারও হতে পারব না’

কর্নেল অলি: শপথ নিয়েছি দেশের মন্ত্রী হিসেবে, দলের নয়; বেইমানি-মোনাফেকি করতে পারব না
টুইট ডেস্ক: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ক্ষমতায় থাকার সময় বিএনপি সরকারকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশিত সুশাসন না পাওয়ায় তিনি দলটি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি।
১৯৯১ সালের পর বিএনপি সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অলি আহমদ বলেন, তিনি দলমত নির্বিশেষে সব সংসদ সদস্যের জন্য কাজ করেছেন। এ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও তিনি তা মানতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, তিনি শপথ নিয়েছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মন্ত্রী হিসেবে, বিএনপির মন্ত্রী হিসেবে নয়। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দলীয় বিভাজন করতে চাননি। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতেও প্রস্তুত ছিলেন বলে জানান তিনি।
অলি আহমদের ভাষ্য, বেইমানি বা মোনাফেকি করে কোনো পদ ধরে রাখার পক্ষে তিনি নন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ যখন সংকটের মুখে পড়েছিল, তখন তিনি সম্মুখসারিতে ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিদ্রোহে অংশ নেওয়া এবং তাকে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কথাও স্মরণ করেন তিনি।
অলি আহমদ বলেন, তখন তিনি ছিলেন তরুণ একজন ক্যাপ্টেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে জিয়াউর রহমানের পাশে থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রত্যক্ষ করার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নিজের সমালোচকদের নিয়েও কথা বলেন এলডিপি সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করা হয় এবং এমন কথাও বলা হয় যে তিনি নাকি সংসদ সদস্যও হতে পারবেন না।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে যে স্তরের লোক, তার চিন্তাধারাই তো ওই স্তরের।’
এ ছাড়া জিয়াউর রহমানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অলি আহমদ দাবি করেন, তিনি প্রতিটি অভিযানে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।






