এসএসসিতে পাসের হার ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

পাস ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬; পাস ও জিপিএ-৫-দুই দিকেই এগিয়ে মেয়েরা
টুইট ডেস্ক: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছে। অর্থাৎ ২০০৭ সালের পর মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় এবার সর্বনিম্ন পাসের হার দেখা গেল।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে ফল প্রকাশ করা হয়। পরে সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবার ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
গত বছর এ পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।
কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও
এবার মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
২০২১ সালে দেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। বিপরীতে ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
মেয়েদের ফল ভালো
পাসের হার ও জিপিএ-৫-দুই ক্ষেত্রেই এবার ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন ছাত্র অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
অন্যদিকে ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র।
কোন ধারায় কত পাস
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিলে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
অনলাইন ও খুদে বার্তায় ফল
পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মুঠোফোনের খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানতে পারছে।
সমন্বিত ফলাফলের ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাচ্ছে। খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানতে যেকোনো মুঠোফোন থেকে বার্তার অপশনে গিয়ে প্রথমে ‘SSC’ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর এবং স্পেস দিয়ে ‘2026’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে লিখতে হবে—‘SSC DHA ROLL YEAR’।
দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য—‘SSC MAD ROLL YEAR’ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য—‘SSC TEC ROLL YEAR’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
প্রতিটি খুদে বার্তার জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে।
মঙ্গলবার থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন
ফলাফলে সন্তুষ্ট না হলে পরীক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদন চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।
প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত ফি মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবা ও সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন অনলাইনে করতে হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলো হাতে হাতে বা ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করবে না।
একাদশে ভর্তিতে ফলই হবে মূল ভিত্তি
এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতেই এবারও একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ও শিক্ষার্থীর পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তবে নটর ডেম কলেজ ও হলিক্রস কলেজের মতো চার্চ পরিচালিত কিছু কলেজে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
সারা দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ২৬ লাখের বেশি আসন রয়েছে। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি। ফলে অন্যান্য বছরের মতো এবারও একাদশ শ্রেণিতে প্রায় পৌনে ৮ লাখ আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।






