অপরাধীর পরিচয় একটাই—অপরাধী: ডিআইজি আশিক সাঈদ

রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নয়, অপরাধের ভিত্তিতেই আইনি ব্যবস্থা; মাদক-সন্ত্রাস দমনে জনসম্পৃক্ততার আহ্বান

টুইট ডেস্ক: অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধী হিসেবেই আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ।

তিনি বলেন, অপরাধ দমনে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর তানোর থানা চত্বরে মাদক, অন্তর্জালভিত্তিক অপরাধ, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে আয়োজিত জনসম্পৃক্ত পুলিশিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিআইজি আশিক সাঈদ বলেন, পুলিশ এখন জনগণের শত্রু নয়, বন্ধু হয়ে কাজ করবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক, অন্তর্জালভিত্তিক অপরাধ, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ নির্মূলে শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়তে স্থানীয় বাসিন্দাদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার চাকরি থাকবে না। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তানোর থানা মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন, কামারগাঁয়ে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং মুন্ডমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি পাঁচন্দর ইউনিয়নের পুরোনো পরিষদ ভবনে স্থানান্তরের দাবি জানান। স্থানীয়দের এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ।

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানের সভাপতিত্বে এবং তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম মাসুদ পরভেজের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মির্জা আব্দুস সালাম, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল ইসলাম, তানোর উপজেলা জামায়াতের আমির আলমগীর হোসেন, সেক্রেটারি ডিএম আক্কাস আলী, তানোর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একরাম আলী মোল্লা এবং মুন্ডমালা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।

সভায় জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে থানা চত্বরে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ ও রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান ফলদ গাছের চারা রোপণ করেন।