ফলিয়ার বিলে মুরগির বিষ্ঠার স্তূপ, দূষণে বিপর্যস্ত পরিবেশ

রাতের আঁধারে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার অভিযোগ; জনদুর্ভোগ বাড়ছে, ব্যবস্থার আশ্বাস পরিবেশ অধিদপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা ও দুর্গাপুর উপজেলার মধ্যবর্তী ফলিয়ার বিলে রাতের আঁধারে ট্রাকে করে মুরগির খামারের বিষ্ঠা ফেলার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিলসংলগ্ন এলাকায় এভাবে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার কারণে পানি দূষিত হচ্ছে, ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী থেকে মোহনগঞ্জগামী সড়কের পাশের ফলিয়ার বিল এলাকায় গভীর রাতে বিভিন্ন মুরগির খামার থেকে সংগ্রহ করা বিষ্ঠা ট্রাকে করে এনে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা হচ্ছে। এসব বর্জ্য স্তূপ করে রাখায় চারদিকে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজশাহী-মোহনগঞ্জ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী, পথচারী এবং আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৃষ্টির পানি ও প্রাকৃতিক প্রবাহের সঙ্গে এসব বর্জ্য বিল, খাল ও আশপাশের জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পানির স্বাভাবিক গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, কৃষিজমি, খাল-বিল এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফলিয়ার বিল কিংবা অন্য কোনো উন্মুক্ত স্থানে এ ধরনের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারিরও আহ্বান জানান তারা।

তাদের ভাষ্য, ফলিয়ার বিল শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বিল ও আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, এর আগে ওই স্থানে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার ঘটনায় ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। বর্তমানে নাবিল গ্রুপের একটি ঠিকাদারের মাধ্যমে সেখানে মুরগির বিষ্ঠা ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।