বিরতি ভেঙে ফের ইরানে মার্কিন হামলা

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি ও মার্কিন ট্যাংকারে হামলার জবাবে অভিযান, শান্তি আলোচনার ইঙ্গিতও ট্রাম্পের

টুইট ডেস্ক: টানা প্রায় পাঁচ দিনের বিরতির পর আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা) থেকে মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা শুরু করে। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, আগের দিন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার উপযুক্ত জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। তবে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরের দিকে মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে ড্রোন আঘাত হানে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে। এতে বন্দরে আগুন লাগে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান অভিযান পরিচালনা করছিল।

একই সময় জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার দায় স্বীকার করে।

অন্যদিকে মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় দামিয়েত্তা বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিশ্চিত করলেও ড্রোন হামলার বিষয়টি উল্লেখ করেনি।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জবাব কঠোর হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চায় ওয়াশিংটন।

এদিকে আইআরজিসির সর্বশেষ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ওমানের দেওয়া প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কৌশলগত এই নৌপথকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স