রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রাকসু জিএস আম্মারকে ঘিরে তোলপাড়

প্রক্টর অফিসের সামনে সংঘর্ষের ভিডিও ভাইরাল; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতি‌বেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

রবিবার (২৭ জুলাই ২০২৬) দুপুর থেকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ভাইরাল ভিডিওগুলোতে আম্মারকে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি প্রকাশ্যে এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হচ্ছে।
তবে সালাহউদ্দিন আম্মারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, তিনি প্রক্টর অফিসের সামনে বসার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী প্রথমে তার ওপর হামলা করেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আম্মারকে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে লিপ্ত দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি প্রকাশ্যে এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন। 

সন্ধ‌্যা সা‌ড়ে ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রক্টর অফিস থেকেও ঘটনার বিষয়ে লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, ভিডিওর আংশিক অংশ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না; পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

উল্লেখ্য, সালাহউদ্দিন আম্মার ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হন। অতীতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ইস্যু—যেমন ডিনদের পদত্যাগের দাবি এবং শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ—নিয়েও তিনি আলোচনায় ও সমালোচনায় ছিলেন।

এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা মতামত দিচ্ছেন। প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বক্তব্য প্রকাশিত হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।