রুমার দুর্গম পাহাড়ে হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যুর দাবি

স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত চলছে, চিকিৎসাহীন অন্তত ১৩ শিশু; মেডিকেল দল পাঠানোর উদ্যোগ
বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের উপসর্গে গত পাঁচ দিনে অন্তত পাঁচ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুর খবর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৫ জুলাই) রুমা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লিনতং পাড়ায় হামের উপসর্গে পলি খুমী (৯) ও নাটয়ী খুমী (৬) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে একই ধরনের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। তবে বাকি তিন শিশুর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের মেনসিং, চিনি, পালে ও রুইফ পাড়ায় অন্তত ১৩ শিশু চিকিৎসাসেবা ছাড়াই অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে রয়েছেন মেনপ্রে ম্রো (১৩), তুম ওয়াই ম্রো (১৩), পংরাও ম্রো (১০), চামরুম ম্রো (৮), সংলিও ম্রো (১২), তাই পাও ম্রো (১৩), প্রিংরাও ম্রো (১৫), চামঙি ম্রো (১৪) ও কিংসাই ম্রো (২)।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এখনো চিকিৎসক বা মেডিকেল দল আক্রান্ত পাড়াগুলোতে পৌঁছাতে পারেনি। জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও সম্ভব হচ্ছে না।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হাসান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে হামের মতো উপসর্গ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সত্য। তবে শিশু মৃত্যুর খবর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আক্রান্ত এলাকায় মেডিকেল টিম ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। দুর্গমতা এবং ম্রো ও খুমি সম্প্রদায়ের কিছু পরিবারের টিকা গ্রহণে অনীহাকে হামের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী বলেন, শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের অংলাই পাড়ায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আওতায় ২১ শিশুকে হামের টিকা এবং ৬২ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।






