বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহের জোয়ার, শিক্ষামেলায় উপচে পড়া ভিড়

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ বাড়ছে, দ্বিতীয় দিনেই প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী-অভিভাবকের অংশগ্রহণ

টুইট ডেস্ক: বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) আয়োজিত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনভর মেলায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিদেশে ভর্তি, বৃত্তি, ভিসা, ভাষা পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়ে জানতে বিভিন্ন স্টলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মেলায় অংশ নেন। তাঁরা দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৮টায় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ শিক্ষামেলায় ৩৫টি স্টলে ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। মেলায় স্কলারশিপ, ভর্তি প্রক্রিয়া, ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা, ভিসা নির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের সুযোগ নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইউরোপিয়ান, মালয়েশিয়ান ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা প্রদর্শনীর পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং সেশনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, আইসিসিবির গুলনকশা হলের প্রায় প্রতিটি স্টলেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ এবং মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্টলে ছিল দীর্ঘ সারি। অনেকে একাধিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করেন।

উচ্চশিক্ষার অর্থায়ন নিয়েও ছিল বিশেষ আগ্রহ। বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা বিদেশে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণ, আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবার বিষয়ে তথ্য দেন।

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী **মেহেদী হাসান** বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই স্থানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে স্কলারশিপ, টিউশন ফি, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্পর্কে বাস্তব তথ্য পাওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়েছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনিয়া রহমান বলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে আগে দ্বিধায় ছিলেন। তবে মেলায় এসে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক হবে।

এনসিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ শর্তে শিক্ষা ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সীমিত গ্যারান্টারের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

ফেয়ার কনভেনার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ গালিব বলেন, বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যাপারে অনেক বেশি আগ্রহী। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেলে তাঁরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সফলভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তাঁর মতে, দ্বিতীয় দিনের বিপুল উপস্থিতি বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই প্রতিফলন।

প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর অব ইভেন্টস অ্যান্ড সেলস আশিকুর রহমান তানভীর বলেন, মেলার শেষ দিনেও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, বৃত্তি, ভিসা প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ রয়েছে। যারা এখনো মেলায় অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের জন্য শনিবারই শেষ সুযোগ।