বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলায় জনদুর্ভোগ চরমে; প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিজিবির উদ্ধার-ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

টুইট ডেস্ক: টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা এখনও অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে, চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে বৃদ্ধ ও শিশুসহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত একজন।

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরীসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এখনও পানির নিচে রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার বহু মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির। তবে গতকাল দুপুরের পর থেকে ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় কিছু এলাকায় পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, যা দুর্গত মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।

অন্যদিকে, বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আংশিক উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টি কমে আসায় সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে এবং জেলা শহরের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমেছে। তবুও প্লাবিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

এদিকে, রাঙ্গামাটিতে বন্যা ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির ফারুয়া এলাকায় পানি কিছুটা কমলেও জেলার অনেক এলাকা এখনও প্লাবিত। দুর্গম অঞ্চলে নৌকাযোগে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। জেলায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো মাঠে কাজ করছে। তবে দুর্গত মানুষের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।