রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনে শেষ আটে আর্জেন্টিনা

দুই গোলে পিছিয়েও ১৩ মিনিটে তিন গোল; মিশরকে ৩-২ হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
টুইট প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এক অনন্য কাহিনি লিখেছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ ১৩ মিনিটে টানা তিন গোল করে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড অথবা কলম্বিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই চমক দেখায় মিশর। ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার নিখুঁত ক্রসে ইয়াসির ইব্রাহিমের শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।
এরপর ২১তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। তার নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।
প্রথমার্ধজুড়ে আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও মিশরের রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সমতা ফেরাতে পারেনি। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়েই বিরতিতে যায় লিওনেল স্কালোনির দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখলেও ৬৭তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
৭৯তম মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমায় আর্জেন্টিনা। পাঁচ মিনিট পর মেসি নিজেই গোল করে সমতা ফেরান। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল। একই সঙ্গে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
সমতায় ফেরার পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ দিকে লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের হেড জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচজুড়ে মিশরের সাহসী লড়াই প্রশংসা কুড়ালেও অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তায় শেষ হাসি হাসে আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এই জয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা।






