বিশ্বকাপ অধরাই, অপূর্ণ রইল রোনালদোর শেষ স্বপ্ন

ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শেষে অশ্রুসিক্ত বিদায়; বিশ্বমঞ্চে মেসির সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথও আর দেখা হলো না।
টুইট প্রতিবেদক: বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলের পরাজয়ে পর্তুগালের বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার বিশ্বকাপ অধ্যায়। অশ্রুসিক্ত বিদায়ে শেষ হলেও দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে গড়া অসংখ্য কীর্তি তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে স্মরণীয় করে রাখবে।
রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জুভেন্টাসে অসাধারণ সাফল্যের পরও বিশ্বকাপ ছিল তার অপূর্ণ অধ্যায়। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত রোনালদো জানিয়ে দেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। তবে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না।
পর্তুগালের সদ্য পদত্যাগী প্রধান কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোকে ফুটবলের অন্যতম আইকন উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অধিনায়ক হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। দলের প্রতি তার নেতৃত্ব ও নিবেদন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে রোনালদো খেলেছেন ২৭টি ম্যাচ, করেছেন ১১টি গোল। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই ফরোয়ার্ডের সেরা সাফল্য ছিল সেই আসরেই, যখন পর্তুগাল চতুর্থ স্থান অর্জন করে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নকআউট পর্বে করা গোলটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড। পাশাপাশি টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র ফুটবলার হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপে রোনালদোর স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। সেই ম্যাচের শেষ দিকে করা ফ্রি-কিক গোল এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত।
স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও রোনালদোর প্রশংসা করে বলেন, তার মূল্যবোধ, পেশাদারিত্ব এবং খেলার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি তরুণ ফুটবলারদের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবে।
দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির সঙ্গে রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই মহাতারকার মুখোমুখি লড়াই আর দেখা হলো না। ২০২৬ আসরে সেই সম্ভাবনা থাকলেও পর্তুগালের গ্রুপপর্বের অবস্থানের কারণে সম্ভাবনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি।
অন্যদিকে, ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে নিজের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করেন লিওনেল মেসি। চলতি আসরে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও শীর্ষে উঠে গেছেন। বিপরীতে রোনালদোর ক্যারিয়ারে প্রায় সব বড় অর্জন থাকলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এবং বিশ্বমঞ্চে মেসির বিপক্ষে একটি স্মরণীয় দ্বৈরথ,দুটি স্বপ্নই অপূর্ণ থেকে গেল।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম উজ্জ্বলভাবেই লেখা থাকবে। কিন্তু বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি তার হাতে আর ওঠেনিএটাই হয়তো তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা।






