ভারতের পর্যটন ভিসা চালু, এবার প্রশ্ন-কবে ফিরবে বাংলাদেশ–ভারত ট্রেন?

প্রায় দুই বছর বন্ধ আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ; সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ভিসা, যাত্রী ও বাণিজ্যিক বাস্তবতায়
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ–ভারত আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা যাত্রীবাহী রেলসেবা কবে চালু হবে— সে প্রশ্ন এখন পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েকে পাঠানো আগের চিঠির কোনো উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। নতুন করে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এলে আবারও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ–ভারত ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়টি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে— ভিসা প্রক্রিয়ার সহজীকরণ, পর্যাপ্ত যাত্রীর উপস্থিতি এবং সেবাটির বাণিজ্যিক লাভজনকতা। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাস্তব অর্থনৈতিক বিবেচনাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুই দেশের যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছিল মৈত্রী এক্সপ্রেসের মাধ্যমে। ২০০৮ সালে ঢাকা–কলকাতা রুটে চালু হওয়া এই ট্রেন প্রায় চার দশক পর দুই দেশের সরাসরি যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে। পরে খুলনা–কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা–নিউ জলপাইগুড়ি রুটে মিতালী এক্সপ্রেস চালু হয়।
তবে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের অস্থির পরিস্থিতির পর ধাপে ধাপে তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে অবস্থান করা ভারতীয় রেলওয়ের কোচ ও ওয়াগনও ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রেন পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে শিগগির আলোচনা হতে পারে। সম্ভাব্য বৈঠকে রুট পুনর্বিন্যাসের বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে আগে ব্যবহৃত রুটের পরিবর্তে নতুন অবকাঠামো ব্যবহার করা সম্ভব কি না, সেটিও বিবেচনায় থাকতে পারে।
এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার মধ্যে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে ট্রেন চালু হলে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভারতের পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু হলেও প্রথম কয়েক দিনে আবেদনকারীর চাপ তুলনামূলক কম ছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ হলে যাত্রী বাড়বে এবং আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর দাবিও আরও জোরালো হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, পর্যাপ্ত যাত্রী ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা তৈরি হলে দুই দেশই আন্তঃদেশীয় ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে আগ্রহী হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।






