সীমান্ত নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও শক্তিশালী

আশ্রয়প্রার্থীদের সীমান্তেই ফিরিয়ে দেওয়া ও অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের পথে বড় আইনি সমর্থন।

টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক দুটি রায় দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সীমান্ত নীতির বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সমর্থকরা। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এসব রায়ের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আইনি সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হবে।

প্রথম রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ৬–৩ ভোটে সিদ্ধান্ত দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে প্রবেশের আগে কোনো ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে দেশটিতে ‘পৌঁছেছেন’ বলে গণ্য হবেন না। ফলে সীমান্ত কর্মকর্তারা মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগেই ফিরিয়ে দিতে পারবেন। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখেছেন বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি সীমান্তের বাইরে অবস্থান করলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

দ্বিতীয় রায়ে আদালত অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) বিষয়ে প্রশাসনের ক্ষমতাকে বহাল রাখে। এর ফলে প্রশাসন নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের দেওয়া টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে এবং এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত থাকবে।

ওয়াশিংটন এক্সামিনারের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই দুটি রায় অভিবাসন আইনের শব্দগত অর্থকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে। সম্পাদকীয়টির মতে, অভিবাসন আইন প্রণয়ন করবে কংগ্রেস এবং তা বাস্তবায়ন করবে প্রেসিডেন্ট; নিম্ন আদালতের ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের উদ্দেশ্য পরিবর্তিত হওয়া উচিত নয়।

তবে সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার পথ আরও কঠিন করে তুলবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দিলে তারা সহিংসতা, অনিরাপত্তা ও মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এসব রায় শুধু বর্তমান প্রশাসনের জন্য নয়, ভবিষ্যতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয়নীতি এবং নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যে বিতর্ক চলছে, এই রায়গুলো সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করবে।