ইউটিউবে ইতিহাস গড়ল বাংলা সিনেমার পাঁচ গান

‘দুষ্টু কোকিল’ শীর্ষে, ‘লাগে উড়াধুরা’ দ্বিতীয়; পাঁচ গানের সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা বাংলাদেশের জনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেল
বিনোদন ডেস্ক | TweetNews24.com
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রসংগীত ডিজিটাল যুগে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইউটিউবভিত্তিক দর্শকসংখ্যার সর্বশেষ হিসাব বলছে, বাংলা চলচ্চিত্রের পাঁচটি জনপ্রিয় গানের সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা একশ পঞ্চাশ কোটিরও বেশি, যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় বহুগুণ বেশি। এই সাফল্য শুধু দেশের সংগীতশিল্পের জনপ্রিয়তাই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলা চলচ্চিত্রের গানের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে সুপারহিট চলচ্চিত্র ‘তুফান’-এর আলোচিত গান ‘দুষ্টু কোকিল’। দুটি সরকারি ইউটিউব চ্যানেলের সম্মিলিত হিসাবে গানটি ৫০ কোটি ৬০ লাখের বেশি দর্শকসংখ্যা অর্জন করেছে। মুক্তির মাত্র এক বছরের মধ্যে ৫০ কোটি দর্শকসংখ্যার মাইলফলক স্পর্শ করে এটি বাংলা চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে এ অর্জনের নতুন নজির গড়ে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে একই চলচ্চিত্রের আরেক জনপ্রিয় গান ‘লাগে উড়াধুরা’। গানটি এখন পর্যন্ত ৪০ কোটি ৪০ লাখের বেশি দর্শক পেয়েছে। মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক ব্যবহার এবং দেশ-বিদেশের দর্শকদের ইতিবাচক সাড়ার কারণে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘খাইরুন সুন্দরী’ চলচ্চিত্রের ‘খাইরুন লো’। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই গানটি অনেক বছর পর ইউটিউবে প্রকাশিত হলেও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বর্তমানে এর দর্শকসংখ্যা ২৩ কোটির বেশি।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে ‘হৃদয়ের বন্ধন’ চলচ্চিত্রের ‘বধূবেশে কন্যা যখন এলো রে’। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গানটির আবেদন কমেনি। ইউটিউবে এটি ইতোমধ্যে ২১ কোটি ৪০ লাখের বেশি দর্শক পেয়েছে।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে ‘প্রিয়তমা’ চলচ্চিত্রের বহুল আলোচিত গান ‘ও প্রিয়তমা’। মুক্তির প্রথম তিন মাসেই ১০ কোটি দর্শকসংখ্যা অতিক্রম করে আলোচনায় আসে গানটি। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ইউটিউব চ্যানেল মিলিয়ে এর দর্শকসংখ্যা ২০ কোটি ২০ লাখের বেশি। বাংলা চলচ্চিত্রের গান হিসেবে বৈশ্বিক শীর্ষ ১০০ তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার বিরল কৃতিত্বও রয়েছে এই গানের ঝুলিতে।
বাংলা চলচ্চিত্রসংগীতের নতুন অধ্যায়
সংগীতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্রচারব্যবস্থার বিস্তার, উন্নত চিত্রায়ণ, আধুনিক সংগীতায়োজন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা বাংলা চলচ্চিত্রের গানকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষ করে ইউটিউব, ক্ষুদ্র ভিডিওমাধ্যম এবং প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রসংগীত এখন আর কেবল দেশীয় বিনোদনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বৈশ্বিক ডিজিটাল অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নতুন ইতিহাস রচনা করছে।






