আনচেলত্তির হাই প্রেসিংয়ে বদলে গেছে ব্রাজিলের খেলার চেহারা

প্রতিপক্ষের অর্ধেই বল পুনরুদ্ধারে জোর, প্রতি চার গোলের একটিই আসছে সংগঠিত চাপ থেকে; নকআউট পর্বে আরও কার্যকর হতে পারে নতুন কৌশল
টুইট প্রতিবেদক: বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী সেলেসাওদের কাছে প্রতিটি আসরেই শিরোপা প্রত্যাশা করা হয়। তবে ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের মুকুট অধরাই থেকে গেছে। দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বেও আগের সেই ধারাবাহিকতা নেই।
দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতা কাটিয়ে হারানো গৌরব ফেরাতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নেয় ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষ। ইতিহাসে বিরলভাবে বিদেশি কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় ইতালির অভিজ্ঞ কৌশলী কার্লো আনচেলত্তিকে।
চলমান বিশ্বকাপে আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের খেলায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে।
আগে যেখানে নিজেদের অর্ধে নেমে রক্ষণ সামলানোয় বেশি গুরুত্ব দিত দলটি, এখন প্রতিপক্ষের অর্ধেই সংগঠিত চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত বল পুনরুদ্ধারের কৌশল গ্রহণ করেছে। এই উচ্চচাপভিত্তিক রণকৌশলই বর্তমানে সেলেসাওদের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যানও সেই পরিবর্তনের সাক্ষ্য দিচ্ছে। আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের করা ৩৩ গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর। অর্থাৎ প্রতি চারটি গোলের একটি এসেছে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে বল পুনরুদ্ধারের ফল হিসেবে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। দলের প্রথম দুটি গোলই আসে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার পর। একই ধরনের পরিস্থিতি থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আরও একটি গোল করলেও পরে ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়।
এই কৌশল অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের জুনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের গোলও এসেছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের কাছাকাছি বল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে। সেই পরিকল্পনাকেই আরও পরিশীলিত করেছেন আনচেলত্তি।
অনুশীলনেও এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত বিশেষ অনুশীলনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত বল কেড়ে নেওয়া, স্বল্প পাসে আক্রমণ গড়া এবং দ্রুত গোলমুখে আঘাত হানার প্রস্তুতি দেওয়া হচ্ছে। ম্যাচ-পূর্ব ভিডিও বিশ্লেষণ ও কৌশলগত আলোচনাতেও এই পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর আনচেলত্তি বলেন, দলের মানসিকতায় কখনও ঘাটতি ছিল না; সমস্যাটা ছিল খেলার মান ও সংগঠনে। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করতে পারা দলীয় শৃঙ্খলা, সমন্বয় ও মানসিক দৃঢ়তারই প্রতিফলন।
বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে ব্রাজিল প্রতিপক্ষকে ১০৮ বার বল হারাতে বাধ্য করেছে, যা তাদের উচ্চচাপভিত্তিক কৌশলের কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বল প্রতিপক্ষের গোলমুখের কাছাকাছি ফিরে পাওয়ায় দীর্ঘ দূরত্ব থেকে আক্রমণ গড়তে হয় না। এতে খেলোয়াড়দের শক্তির অপচয় কমে, আবার অগোছালো রক্ষণকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত গোলের সুযোগ তৈরি করা সহজ হয়।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও কঠিন হবে। তবে আনচেলত্তির উচ্চচাপভিত্তিক রণকৌশল ব্রাজিলকে শিরোপার পথে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল






