বাবাই আমার জীবনের আদর্শ: চিত্র নায়িকা ববিতা

বিশ্ব বাবা দিবসে প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী

টুইট বিনোদন ডেস্ক: বিশ্ব বাবা দিবসে প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন কথা বলেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী । তিনি জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর বাবা এ এস এম নিজামউদ্দিন।

ববিতার ভাষায়, তাঁর জীবনজুড়ে বাবার উপস্থিতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বাবার আদর্শে বেড়ে ওঠার কথা সবাই বললেও তিনি মনে করেন, বাবার দেখানো পথ কতটা অনুসরণ করতে পেরেছেন,সেটি তাঁর নিজের কাছেই বড় প্রশ্ন।

অভিনেত্রী জানান, বিয়ের মাত্র চার মাস পর বাবাকে হারান তিনি। সেই সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও স্মৃতিগুলো আজও তাঁকে পথ দেখায়।

ছয় ভাইবোনকে নিয়ে বাবার যত্নশীল শাসনের স্মৃতি তুলে ধরে ববিতা বলেন, সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফেরার বিষয়ে বাবা সব সময় সতর্ক করতেন। তাঁর পরিপাটি থাকা, গুছিয়ে চলার অভ্যাসও বাবার কাছ থেকেই পাওয়া।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বাবা অফিস থেকে ফিরলে তাঁরা ভাইবোনেরা তাঁকে পান বানিয়ে দিতেন। বাবার সঙ্গে গল্প, আবদার আর স্নেহের সেই মুহূর্তগুলো এখনো তাঁর কাছে অমূল্য।

ববিতার অভিনয়জীবনের সূচনাতেও বাবার ভূমিকা ছিল বিশেষ। তিনি জানান, বাবা সিনেমা দেখতে ভালোবাসতেন এবং বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে সন্তানদের অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতেন। সেখান থেকেই তাঁর অভিনয়ের অনুপ্রেরণা তৈরি হয়।

বিশ্বখ্যাত নির্মাতার ‘অশনিসংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে বাবার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন ববিতা।

ইংরেজি শেখার আগ্রহের কথা জানতে পেরে বাবা তাঁকে একটি অভিধান কিনে দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। ছোটবেলার একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, বাবাকে খুশি করে মামার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন হারিকেন হাতে বাবাকে এগিয়ে নিতে গিয়ে।

ববিতা বলেন, তাঁর জীবনের আদর্শ তাঁর বাবা। জীবনের শেষ ইচ্ছার কথাও জানিয়ে তিনি বলেন, মৃত্যুর পর বাবার কবরের কাছেই যেন তাঁর শেষ ঠিকানা হয়।

টুইটনিউজ২৪.কম | বিনোদন বিভাগ