টানা বৃষ্টি ও ভারতের পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে শেরপুরে বন্যার শঙ্কা

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দ্রুত বাড়ছে নদীর পানি, ঝুঁকিতে নিম্নাঞ্চল।

টুইট প্রতিবেদক: শেরপুর, ২১ জুন: টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে শেরপুরের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি কিংবা তারও ওপরে পৌঁছেছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

রোববার সকাল থেকে শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকে। এর প্রভাবে জেলার নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দেয়, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোগাই নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। নাকুগাঁও পয়েন্টে সকালে বিপৎসীমার ৪২৬ সেন্টিমিটার নিচে থাকা পানি সন্ধ্যায় বেড়ে বিপৎসীমার ১৬৯ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছেছে। নালিতাবাড়ী পয়েন্টেও একই সময়ে পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মেঘালয় অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব শেরপুরের নদীগুলোতে পড়তে পারে।

চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে চলে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের কাঁচিমৌ গ্রামে প্রায় ৩০০ পরিবার নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, উজানের অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জেলার নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যার পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বর্ষণ অব্যাহত থাকলে নতুন করে কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।