মেসিময় মাইলফলকের ম্যাচ! আর্জেন্টিনা ৩-০ আলজেরিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপ: হ্যাটট্রিকে ক্লোসের রেকর্ড ছুঁয়ে ইতিহাস গড়লেন মেসি। হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে ১৬ গোল, ২০০তম ম্যাচ ও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ—এক রাতে একাধিক রেকর্ডে মেসির বিস্ময়কর উত্থান।

এম বি আলম: বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতোই দাপুটে সূচনা করল আর্জেন্টিনা। আধিপত্য, শৈল্পিকতা ও নিখুঁত ফুটবলের প্রদর্শনীতে গ্রুপ জে-এর ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। আর এই জয়ের অবিস্মরণীয় নায়ক লিওনেল মেসি ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার একাই হ্যাটট্রিক করে এক রাতে ছুঁয়েছেন একের পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল মেসির ছাপ। ৬ষ্ঠ মিনিটেই বাম পায়ের জাদুতে গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। তবে ১৭ মিনিটে আর ভুল হয়নি। রদ্রিগো ডি পলের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শটে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানেকে পরাস্ত করেন তিনি। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন একটাই ধ্বনি—“মেসি! মেসি! মেসি!”

প্রথমার্ধে একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা ছন্দ হারায় আর্জেন্টিনা। তবে বড় খেলোয়াড়রা বড় মুহূর্তেই নিজেদের প্রমাণ করেন। প্রায় ৬০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোরালো শট প্রতিহত করেন লুকা জিদান, কিন্তু বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। ফিরতি বলে ঠিক জায়গায় থাকা মেসি ‘ফক্স ইন দ্য বক্স’-এর মতো সহজ ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করে। এখন মাত্র একটি গোলই তাকে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসাতে পারে।

রেকর্ডের তালিকা এখানেই শেষ নয়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২২৮ ম্যাচ) এবং কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়া (২০২ ম্যাচ)।

এছাড়া এটি ছিল মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড এখন তার দখলে। বৃহস্পতিবার পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামলে এই রেকর্ডে তার পাশে নাম লেখাতে পারেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলীয় পারফরম্যান্সেও ছিল চ্যাম্পিয়নসুলভ দৃঢ়তা। বলের দখল, আক্রমণের ধার এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ—সব দিকেই আলজেরিয়াকে ছাপিয়ে গেছে আর্জেন্টিনা। রিয়াদ মাহরেজকে বেঞ্চে রেখেও আলজেরিয়ার আক্রমণ ছিল নিস্তেজ ও অকার্যকর।

ম্যাচ শেষে দর্শকদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে সম্মাননা পান মেসি। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে আর্জেন্টিনা জানিয়ে দিল—তারা শুধু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নয়, বরং আবারও শিরোপা জয়ের শক্তিশালী দাবিদার।

ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, দলের জন্য এটি দারুণ শুরু। তিনি সেরা ফুটবল খেলতে চেয়েছেন, রেকর্ড আসবে, তবে তার মূল লক্ষ্য ট্রফি জেতা।

এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে তাদের যাত্রা শুরু হলো ‘মেসিময়’ আলোয়।