হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তির সম্ভাব্য ৯ শর্ত প্রকাশ

যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা তবে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত নয় চুক্তির বিস্তারিত।
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খসড়া সামনে এসেছে, যেখানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকাশ করলেও এখনো দুই দেশের কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করা হয়নি।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার ভোরে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে চুক্তির যে শর্তগুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি, ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া।
এ ছাড়া ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, দেশটির তেল ও জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ তহবিলের অর্ধেক মুক্তি, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু হবে না।
ট্রাম্প তার বার্তায় হরমুজ প্রণালি টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, এতে বৈশ্বিক তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে। তিনি দাবি করেন, তার এই উদ্যোগ পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে এই চুক্তি ইসরাইল ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির ডানপন্থি মহলে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ইসরাইলকে লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করতে হতে পারে, যা তাদের জন্য কৌশলগত চাপ তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে, বহুল আলোচিত এই চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক রূপ পায় কিনা, তা এখন দেখার বিষয়।
বিবিসি (বিবিসি বাংলা)






