উদ্বোধনী ম্যাচেই তিন লাল কার্ড, কড়া বার্তা রেফারিদের?

প্রথম ম্যাচেই কঠোর সিদ্ধান্তের ঝড়, ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন রেফারিং নীতির আভাস দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
টুইট ডেস্ক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে স্কোরলাইন নয়, বরং রেফারিদের তিনটি লাল কার্ড নিয়ে। এক ম্যাচেই তিন খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এবারের বিশ্বকাপে কি নিয়ম প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ম্যাচ পরিচালকেরা?
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের পুরো আসরে মাত্র চারটি লাল কার্ড দেখা গিয়েছিল। অথচ নতুন আসরের প্রথম ম্যাচেই তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। ফলে ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিথোলে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করতে গিয়ে ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে পেছন থেকে ফাউল করেন। রেফারি উইল্টন সাম্পাইও কোনো দ্বিধা না করে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় দ্বিতীয় লাল কার্ডটি দেওয়া হয়। বলের বাইরে সংঘর্ষের সময় থেম্বা জোয়ানে প্রতিপক্ষের রবার্তো আলভারাদোর মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। রিপ্লে পর্যালোচনা শেষে তাকে সহিংস আচরণের দায়ে মাঠ ছাড়তে হয়।
অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে তৃতীয় লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সিজার মন্টেস। দক্ষিণ আফ্রিকার খুলিসো মুদাউকে নিশ্চিত গোলের সুযোগে ফাউল করায় রেফারি তাকে সরাসরি বহিষ্কার করেন।
ম্যাচটি মেক্সিকো ২-০ গোলে জিতলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই তিন সিদ্ধান্ত।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ রাশিয়া ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ মিলিয়ে মোট আটটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপে রেফারিদের সংযত ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে উদ্বোধনী ম্যাচের তিন লাল কার্ড নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
তবে তিনটি সিদ্ধান্তকে একই দৃষ্টিতে দেখছেন না ফুটবল বিশ্লেষকেরা। প্রথম ও তৃতীয় লাল কার্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য বলেই মত তাদের। বিতর্কের মূল কেন্দ্র দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি, যেখানে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় সহিংস আচরণের অভিযোগে জোয়ানেকে বহিষ্কার করা হয়।
অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ঘটনাটি হলুদ কার্ডেও সীমাবদ্ধ রাখা যেত। আবার অন্যদের মতে, খেলোয়াড়দের অসদাচরণ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা এবার কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে।
ফিফার রেফারিং কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে এমন নীতি অনুসরণ করা হয়েছে যে, একান্ত প্রয়োজন না হলে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হবে না। সেই কারণে গত দুই বিশ্বকাপে বহিষ্কারের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
তবে একটি ম্যাচের ওপর ভিত্তি করে পুরো আসরের চিত্র নির্ধারণ করাও তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত হবে। উদ্বোধনী ম্যাচ অন্তত এটুকু স্পষ্ট করেছে যে, নিয়ম প্রয়োগে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাতে রাজি নন রেফারিরা।
এখন নজর থাকবে পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে। পুরো টুর্নামেন্ট শেষে তবেই বোঝা যাবে, ২০২৬ বিশ্বকাপ সত্যিই কঠোর রেফারিংয়ের নতুন অধ্যায় হয়ে ওঠে কি না।






