ফেনীতে মেডিকেল কলেজের দাবিতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

সংসদে এমপি রানু বললেন, দাবি আদায় না হলে দক্ষিণ প্লাজায় আমরণ অনশন করবেন ফেনীর চার সংসদ সদস্য

টুইট ডেস্ক: ফেনীতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু। দাবি বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ফেনীর চারজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে থাকা ফেনী জেলা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা।

সংসদ সদস্য রানু বলেন, ফেনী থেকে নির্বাচিত চারজন সংসদ সদস্য এবং জেলার সাধারণ মানুষের অভিন্ন দাবি হলো—ফেনীতে দ্রুত একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে জেলায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ে উঠলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সেটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিবর্তে বিদ্যমান উদ্যোগ ধ্বংস করেছে, আর বিএনপি উন্নয়ন ও নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।

রেহেনা আক্তার রানু আরও বলেন, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংসদে এ বিষয়ে নিয়মিত বক্তব্য দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ফেনীর চারজন সংসদ সদস্য একযোগে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।

বক্তব্যের শেষাংশে বিষয়টিকে জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি

ফেনীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের মতে, একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, পাশাপাশি চিকিৎসাশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।