ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্ট বিএনপি সরকার

ভিসা, বাণিজ্য ও ট্রান্সশিপমেন্টে নিষেধাজ্ঞা না সরানোয় দিল্লির প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে ঢাকায়

টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার বেশিরভাগই এখনো বহাল রয়েছে। এ কারণে দিল্লির ওপর সন্তুষ্ট নয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার আগেই বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে ভারত। এর অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানান এবং তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

তবে বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশ মনে করে, এসব কূটনৈতিক তৎপরতা যথেষ্ট ছিল না। তাদের মতে, সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ভারতের উচিত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরোপ করা বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া।

ভিসা ও বাণিজ্যে অচলাবস্থা নিয়ে ক্ষোভ

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, বাংলাদেশি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালু, ব্যবসা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের ভিসা স্বাভাবিক করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা উচিত ছিল ভারতের।

কিন্তু এসব বিষয়ে দিল্লি দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখায়নি বলে মনে করছে ঢাকা। ফলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরে অনীহা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দ্য হিন্দুর তথ্যমতে, বিএনপির সিনিয়র নেতারা এমন একটি জনমত গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। যদিও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ছিল এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল।

‘অবৈধ অভিবাসী’ ইস্যুতে অস্বস্তি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপি সরকারের নির্বাচনী প্রচারে ‘অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী’ ইস্যু জোরালোভাবে সামনে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কথিত বাংলাদেশিদের ‘পুশ-ইন’ করার অভিযোগও তোলা হচ্ছে, যা ঢাকায় অস্বস্তি তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঢাকা এ ধরনের বিতর্কে জড়ানোর চেয়ে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন এবং ভিসা সহজীকরণে বেশি গুরুত্ব দিতে চায়।

তবে ভারতের রাজ্য রাজনীতিতে দেওয়া উস্কানিমূলক বক্তব্য পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলবে না বলে দিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় ঢাকার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

ভারতের বদলে চীন ও মালয়েশিয়ায় নজর

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের বদলে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন বলেও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ৭ ও ৮ এপ্রিল ভারত সফর করেন। সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করা।

তবে দ্য হিন্দুর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারত এখনো কার্যকর আস্থার বার্তা দিতে পারেনি। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তিকর দূরত্ব থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু