কারিশমার চোখে নব্বই দশক, অতীতে ফিরতে চান না তিনি

স্মৃতিকে ভালোবাসেন, তবে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষেই বলিউড অভিন

এক সময়ের বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী । দীর্ঘদিন ধরে বড় পর্দায় অনিয়মিত হলেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান, টেলিভিশন শো ও বিশেষ আয়োজনে নিয়মিতই দেখা যায় তাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নব্বইয়ের দশকের হিন্দি চলচ্চিত্র, সেই সময়ের কাজের পরিবেশ এবং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারিশমা বলেন, নব্বইয়ের দশক তার জীবনের অন্যতম সেরা সময় হলেও তিনি অতীত আঁকড়ে ধরে থাকতে চান না। তার ভাষায়, সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম।

কারিশমা বলেন, “আমি নব্বইয়ের দশককে ভালোবাসি। কিন্তু সেই সময়টাকে খুব মিস করি না। কারণ মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। অতীতে আটকে থাকলে চলে না।”

তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্র নির্মাণের ধরন ছিল বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত। অনেক ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্য ছাড়াই শুটিং শুরু হতো। রিহার্সালের সুযোগও ছিল সীমিত। তবুও সেই সময়ের বহু চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছে কালজয়ী হয়ে উঠেছে।

কারিশমার মতে, তখনকার সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বড় পরিসরের নাচের দৃশ্য, পারিবারিক বিনোদন এবং প্রাণবন্ত কৌতুক। শিল্পীরা সেটে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্য ধারণ করতেন এবং সেখান থেকেই তৈরি হতো অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত।

তিনি বলেন, “আমরা সেটে গিয়ে অসংখ্য কৌতুক দৃশ্যে অভিনয় করতাম। এখনকার মতো দীর্ঘ প্রস্তুতি থাকত না। অনেক সময় সেটেই সিদ্ধান্ত হতো কোন দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা হবে।”

নব্বইয়ের দশকের বলিউডের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল শিল্পীদের পারস্পরিক সম্পর্ক। কারিশমা বলেন, একই শিল্পীরা একসঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করতেন। ফলে সহকর্মীদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যা অনেকটা পরিবারের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করত।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, কখনও মুম্বাই, কখনও হায়দরাবাদ, কখনও চেন্নাই কিংবা সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ে শুটিং করতে ছুটে বেড়াতে হতো। ব্যস্ততার মধ্যেও কাজের প্রতি সবার আবেগ ছিল অসাধারণ।

সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হিসেবে কারিশমা জানান, সে সময় অনেক চলচ্চিত্র পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্য ছাড়াই নির্মিত হয়েছে। তার মতে, শক্তিশালী ভাবনা, দক্ষ পরিচালক, মেধাবী অভিনেতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতাই সেই চলচ্চিত্রগুলোর সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিল।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ভবিষ্যতে ও –এর সঙ্গে আবার পর্দা ভাগ করবেন কি না। জবাবে হাস্যরসের সুরে কারিশমা বলেন, ভালো গল্প ও শক্তিশালী চিত্রনাট্য পেলে অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

বলিউডের স্বর্ণালি এক অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ কারিশমা কাপুরের এই মন্তব্য নতুন প্রজন্মের কাছে নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্র জগতের এক ভিন্ন বাস্তবতাই তুলে ধরেছে।