রামিসা হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু

আদালত প্রাঙ্গণে বাড়তি নিরাপত্তা, হাজতে দুই আসামি

টুইট ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা কার্যক্রম শুরু করেন।

এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে আনা হয়। পরে তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। একই মামলার অপর আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনই হাজতে অবস্থান করেন।

আলোচিত এ মামলায় গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজকের দিন রায়ের জন্য ধার্য করেন। মাত্র চার কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রায়কে ঘিরে আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ জুন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে আদালত। ওই দিন ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার বাড়ি থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না আক্তার। পরে রামিসাকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যা করা হয়।

সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে সোহেলের বাসার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যরা শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা দেখতে পান।

ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।