শিকড়ের টানে বিশ্বমঞ্চে ২৮৯ ফুটবলার

জন্মভূমি নয়, পূর্বপুরুষের দেশকে বেছে নেওয়া ২৮৯ ফুটবলারের গল্প।

টুইট প্রতিবেদক: ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, এটি বিশ্বায়নেরও এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। এক দেশের জার্সি গায়ে খেললেও অনেক ফুটবলারের জন্ম অন্য দেশে। চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে সেই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এবারের ৪৮ দলের আসরে অংশ নেওয়া এক হাজার ২৪৮ ফুটবলারের মধ্যে ২৮৯ জন খেলছেন এমন দেশের হয়ে, যেখানে তাদের জন্ম হয়নি। ব্যক্তিগত পরিচয়, পারিবারিক শিকড় এবং আবেগের টানই তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া কুরাসাও। দলটির ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে ২৫ জন ফুটবলারের জন্ম নেদারল্যান্ডসে। কেবল তাহিথ চংয়ের জন্ম কুরাসাওয়ে হলেও তার ফুটবল শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা ইউরোপেই। ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে নেদারল্যান্ডসের ফুটবল কাঠামোর সুবিধা দীর্ঘদিন ধরেই পাচ্ছে কুরাসাও।

বিশ্বকাপে জন্মভূমির বাইরে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আফ্রিকান দলগুলোর মধ্যে। ইউরোপের আধুনিক একাডেমিতে বেড়ে ওঠা বহু ফুটবলার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেছে নিয়েছেন নিজেদের পারিবারিক শিকড়ের দেশকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর স্কোয়াডে দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা ২০। মরক্কোর দলে রয়েছেন ১৯ জন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার দলে ১৭ জন এবং হাইতি ও আলজেরিয়ার দলে ১৬ জন করে বিদেশে জন্ম নেওয়া ফুটবলার।

লাতিন আমেরিকাও এই প্রবণতার বাইরে নয়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দলে এমন কয়েকজন ফুটবলার আছেন, যাদের জন্ম ইউরোপে। ইতালিতে জন্ম নেওয়া জুলিয়ানো সিমিওনে এবং স্পেনে জন্ম নেওয়া নিকো পাস চাইলে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন। তবে তারা দুজনই বেছে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার মাটিতে জন্ম নিয়েও অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বেশ কয়েকজন পরিচিত ফুটবলার। মেক্সিকোর সান্তিয়াগো হিমেনেজ, প্যারাগুয়ের হুয়ান হোসে কাসেরেস, আলেহান্দ্রো গামারো ও আদ্রিয়ান কুবাস, ইকুয়েডরের হার্নান গালিন্দেজ এবং উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে নাগরিকত্বের কাগুজে পরিচয়ের চেয়ে পারিবারিক ইতিহাস ও আবেগের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইউরোপের উন্নত প্রশিক্ষণব্যবস্থা থেকে উঠে আসা এসব ফুটবলার যখন আফ্রিকা, এশিয়া কিংবা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর হয়ে খেলেন, তখন সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মানও বাড়ে।

ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে ভিন্ন দেশের পতাকা বহন করলেও এই ২৮৯ ফুটবলার মূলত বৈশ্বিক ফুটবল সংস্কৃতির এক নতুন বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

তাদের গল্প মনে করিয়ে দেয়,ফুটবলে জন্মস্থান নয়, অনেক সময় শিকড়ের টানই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিচয়।