করপোরেট অন্ধকারের গল্পে আলোচনায় ‘মায়া পাখি’

নেগেটিভ চরিত্রেও দর্শকের মন জয় করলেন অভিনেত্রী জেবিন।

টুইট ডেস্ক: করপোরেট দুনিয়ার ক্ষমতার লড়াই, সম্পর্কের জটিলতা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার অন্ধকার দিক এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে নাটক ‘মায়া পাখি’। নাটকটি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিরতাজ জেবিন, যিনি এতে ‘সুমাইয়া’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

বিনোদন প্রতিবেদক জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত এই নাটকে জেবিনের পারফরম্যান্স দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নেগেটিভ ধাঁচের চরিত্র হয়েও অভিনয়ের গভীরতা ও চরিত্র উপস্থাপনের কারণে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন।

নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন জাকারিয়া শৌখিন। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি করপোরেট অফিস, যেখানে সুমাইয়া ও মায়া চরিত্রের মধ্যকার পেশাগত ও ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় দাফন হয়ে থাকা করপোরেট বাস্তবতা।

নাটকে আরও অভিনয় করেছেন শাহেদ শরীফ খান, অপূর্ব ও নীহা। গল্পে দেখা যায়, বসের ঘনিষ্ঠতা ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় মায়া এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত সুমাইয়া তার বুদ্ধি ও কৌশলে পরিস্থিতি পাল্টে দেয়।

চরিত্র প্রসঙ্গে জেবিন বলেন, তিনি সবসময় চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ে আগ্রহী। তার ভাষায়, যে চরিত্র দর্শকের মনোযোগ কাড়তে পারে, সেটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ‘মায়া পাখি’ নাটকটিকে তিনি করপোরেট জীবনের ভেতরের অন্ধকার বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, জাকারিয়া শৌখিনের সঙ্গে কাজের দীর্ঘ সম্পর্ক থাকায় তার নির্মিত নাটকে কাজ করার প্রতি আলাদা আগ্রহ থাকে। অভিষেক নাটক থেকে শুরু করে একাধিক কাজের অভিজ্ঞতা তাদের পেশাগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।

অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তিজীবনে জেবিন সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। গত ১৮ মে তার জন্মদিনে কোনো আয়োজন না করে রাজধানীর বসুন্ধরায় একটি এতিমখানার শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং খাবারের আয়োজন করেন,যার সম্পূর্ণ ব্যয় তিনি নিজেই বহন করেন।

করপোরেট জীবনের আড়ালের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও মানসিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘মায়া পাখি’ তাই শুধু একটি নাটক নয়, বরং আধুনিক কর্মজীবনের জটিল বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দর্শকের মনোযোগ কাড়ছে।